দায় স্বীকার , রাবি ভাস্কর্য উলট-পালট!

sdfdf741

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউএস বিডি টাইমস :

রাতের আঁধারে কে বা কারা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চারুকলা অনুষদ চত্বরে রাখা প্রায় ছয় শতাধিক ভাস্কর্য উলট-পালট করে রেখেছে। চারদিকে ছড়ানো ছিটানো কিন্তু কোনোটাই ভাঙ্চুর করা হয়নি। পরদিন মঙ্গলবার সকালে বিভাগে এসেই শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ঘটনা দেখে হতবম্ব হন।

চারদিকে এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে সেখানে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার লোকেরাও ভিড় জমায়। এরই মধ্যে ছাত্রলীগ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দায়ী করে একটি বিক্ষোভ মিছিলও করে ফেলে। কিন্তু তাতে কী, ঘটনার রহস্য অন্য। কিছুক্ষণের মধ্যেই বেরিয়ে আসে এর চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এরই মধ্যে সাত শিক্ষার্থী জড়িত বলে জানিয়েছেন শিক্ষকরা। তাদের সনাক্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে তদন্ত কমিটি করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

অনুষদের শিক্ষকরা বলছেন, ‘মস্তিষ্ক বিকৃত’ কিছু শিক্ষার্থী ক্ষোভের বশে ভাস্কর্যগুলো ওলটপালট করে রেখেছে যা আমাদের শিল্পমনে আঘাত হেনেছে।

দায় স্বীকার করে দুই শিক্ষার্থী জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এবং বিভাগের কিছু সমস্যার প্রেক্ষিতে ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থী ভাস্কর্যগুলো উল্টপালট করে রেখে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভাস্কর্য উল্টারের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালেয়র বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা। ভাস্কর্য উল্টপালটের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে রাবি শাখা ছাত্রলীগ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে গিয়ে দেখা যায়, চারুকলা ভবনের পেছনে পুরাতন ক্লাসরুমগুলোর সামনে রাখা ছয় শতাধিক ভাস্কর্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রাখা হয়েছে। সামনের রাস্তাগুলোতে ফেলে রাখা হয়েছে ভাস্কর্য। প্রাথমিকভাবে এ কাজের জন্য অন্যদের সন্দেহও করা হয়। তবে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের দুই শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভাস্কর্য উল্টানোর দায় স্বীকার করে।

তারা সাংবাদিকদের বলেন, বিভাগের নানা সমস্যার ব্যাপারে শিক্ষকদের জানিয়েও কোনো সমাধান না হওয়ায় প্রতিবাদ হিসেবে সোমবার দিবাগত রাতে ত্রিশ-চল্লিশজন শিক্ষার্থী ভাস্কর্যগুলো উল্টপালট করে রেখেছেন। পুরাতন ক্লাসরুমগুলো এবং শিক্ষকদের চেম্বারের সামনেও শিল্পকর্মগুলো ফেলে রাখা হয়েছে।

দায় স্বীকার করা ওই দুই শিক্ষার্থী হলেন, মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের মাস্টার্সের ইউসুফ আলী স্বাধীন এবং ইমরান হোসেন অনিক।

তারা আরো বলেন, আমাদের কোন খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। যদি থাকতো তাহলে ভাস্কর্যগুলো এভাবে শুধু শুইয়ে রাখতাম না, ভেঙ্গে ফেলতাম।

দাবির বিষয়ে তারা বলেন, ভাস্কর্যগুলো দীর্ঘদিন থেকে অরক্ষিতভাবে চারুকলা ভবনের পেছনে পড়ে আছে। এগুলো সংরক্ষণ করতে শিক্ষকদের একাধিকবার বলা হলেও তারা বিষয়টি কানে তুলছেন না। এগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন। তাছাড়া পুরো পরিবেশটা একেবারেই নোংরা হয়ে আছে, জায়গাটা পরিষ্কার করা হয় না। শিক্ষকরাও ঠিকমত ক্লাস নিচ্ছেন না। আমাদের ক্লাসরুম সংকট, শিক্ষক নাই। কাজের সুবিধাও পাচ্ছিনা। তাই এসব বিষয়কে নজরে রাখার আনার জন্য আমরা এভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছি।

এ বিষয়ে বেলা ১২টায় সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোস্তফা শরীফ আনোয়ার। তিনি বলেন, রাতের আঁধারে ভাস্কর্য উল্টানোর ঘটনার সঙ্গে আমাদের বিভাগের সাত শিক্ষার্থীর জড়িত থাকার কথা জানা গেছে। তাদের যদি কোন দাবি দাওয়া থাকতো তাহলে তারা বিভাগে এসে বিষয়গুলো জানাতে পারতো। তা না করে তারা শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করেছে।

তিনি আরো বলেন, এটা প্রতিবাদ জানানোর ভাষা হতে পারেনা। শিক্ষার্থীদের এই কাজটা আমাদের অত্যন্ত আঘাত দিয়েছে। তারা একাজ করে একাডেমিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে। আমরা বিষয়টি প্রক্টরকে অবহিত করেছি,পরে রেজিস্ট্রারকেও অবহিত করব। একাডেমিক পরিষদের সভায় জড়িত শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে জড়িত ওই সাতজনের নাম জানতে চাইলে মোস্তফা শরীফ তাদের নাম জানাতে অস্বীকৃতী জানান।

ভাষ্কর্য উলটপালট করায় অন্যদের ইন্ধনের বিষয়ে জানতে চাইলে অনুষদের অধিকর্তা অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নাকচ করে বলেন, বিষয়টি ছোট। এটা আমাদেরই কিছু শিক্ষার্থীর কাজ। আমাদের এখানে সুযোগ-সুবিধার অপর্যাপ্ততা আছে। নানা রকম সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যার কথা জানাতে হয়ত শিক্ষার্থীরা এরকম করেছে। এখানে কোনো শক্তি জড়িত থাকলে তারা ভাস্কর্যগুলো এভাবে শুইয়ে না রেখে ভেঙ্গে ফেলতো। তবে শিক্ষার্থীরা যেভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে সেটা সঠিক উপায়ে ছিলনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনুষদের এক শিক্ষার্থী বলেন, চারুকলার পরিবেশ পরিবর্তন করার দরকার। ভাস্কর্যগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা হয়েছে, পুরো পরিবেশটা অপরিচ্ছন্ন হয়ে আছে। এগুলোর সংস্কারের বিষয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে অনেক বার কথা হলেও তারা এ বিষয়গুলো এড়িয়ে যান। এতে বাধ্য হয়ে হয়ত বিভাগের বড় ভাইয়েরা করেছে যেন এ বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরিবর্তনটা জানানো প্রয়োজন ছিল, তবে প্রতিবাদ জানানোর মাধ্যমটা সঠিক ছিল না। অন্য কোন উপায়ে তারা প্রতিবাদ জানাতে পারতেন।

এদিকে ভাস্কর্য উলটপালট করে রাখায় ক্ষুব্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এবিষয়ে চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের অধ্যাপক সিদ্ধার্থ শংকর তালুকদার বলেন, এটা প্রতিবাদ জানানোর ভাষা হতে পারেনা। যারা এটা করেছে তারা ভালো করেনি। এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ করেছে তারা।

 

ইউএস বিডি টাইমস /রহমান

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>