ধর্ষণের অভিযোগ অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ফরাসি নারীর

fsdascvdssdf

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউএস বিডি টাইমস :

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজের অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন ফরাসি একজন নারীবাদী লেখিকা।

ওই প্রফেসরের নাম তারিক রমজান (৫৫)। ২০১২ সালে প্যারিসে ইসলামি সম্মেলন শেষে প্রফেসর তারিক রমজান লেখিকা হেন্দা আইয়্যারিকে তার হোটেল রুম নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন বলে লেখিকার দাবি।

৪০ বছর বয়সী এই লেখিকা তার অভিযোগ সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় বক্তব্য রাখেন। তিনি দাবি করেন, হার্ভে ওয়েইনস্টাইন কেলেঙ্কারির ঘটনা তাকে এই ঘটনা জানাতে অনুপ্রাণিত করেছে। এজন্য তিনি ‘বিকৃত গুরু’ হিসাবে অধ্যাপক রমজানের সুনাম মাটিতে মিশিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

আইয়্যারি টেলিগ্রাফকে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি রুয়েনের প্রসিকিউটর অফিসে অধ্যাপক রমজানের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন, সহিংসতা, হয়রানি এবং ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অধ্যাপক রমজান মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিষ্ঠাতা হাসান আল বান্নার নাতি। ২০০৫ সালে লন্ডন হামলার পর চরমপন্থা মোকাবেলায় টাস্ক ফোর্সের সদস্য হিসেবে কাজ করার জন্য টনি ব্লেয়ার সরকার অধ্যাপক রমজানকে মনোনীত করেছিল।

তিনি টরি পিয়ার ব্যারোনেস ওয়ারসির নেতৃত্বে ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা সম্পর্কিত ফরেন অফিসের উপদেষ্টা কমিটির সঙ্গেও কাজ করেছেন। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক ইসলামিক স্টাডিজের অধ্যাপক।

গত রাতে অধ্যাপক তার আইনজীবী ইয়াসিন বাজরুর মাধ্যমে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি ‘স্পষ্টভাবে এই সব মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন’ এবং অপবাদ ও মানহানির জন্য তিনি রুয়েনের পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসে একটি অভিযোগ দায়ের করবেন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা এই অভিযোগ সম্পর্কে অবগত আছি এবং তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি মন্তব্য করার অবস্থানে নেই।’

গত বছর প্রকাশিত ‘আই চুজ টু ফ্রি’ নামে একটি বইয়ে আইয়্যারি একটি অধ্যায়ে তার কথিত আক্রমণ সম্পর্কে লিখেন। বইটিতে তিনি তার ধর্ষণকারীরর নাম যোবায়ের বলে উল্লেখ করেছিলেন।

শুক্রবার রাতে তিনি তার ফেসবুক পেজে বলেন, ‘আজ আমি নিশ্চিত যে বিখ্যাত যোবায়েরই প্রকৃতপক্ষে তারিক রমজান।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রতিহিংসার ভয়ে আমি অনেক বছর নিজেকে নিরব রেখেছিলাম।’

তিউনিশিয়ার বংশোদ্ভুত আইয়্যারি তার বইয়ে বলেন, তিনি ২০১৫ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ফ্রান্সের ইসলামিক অর্গানাইজেশন ইউনিয়নের একটি কংগ্রেসে অধ্যাপক রমজানের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

তিনি জানান, ওই সময় প্রফেসর রমজান তার হোটেল রুমে তাকে দেখা করার জন্য আমন্ত্রণ জানান। হোটেল লবির পরিবর্তে রুমে আমন্ত্রণ জানানোয় তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন বলে জানান।

তিনি দাবি করেন যে তিনি প্রফেসরের রুমে যাওয়ার পর তাকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে চুম্বন করতে শুরু করেন।

তিনি লিখেছেন, ‘যখন আমি তাকে থামাতে চিতৎকার করলাম, তখন তিনি আমাকে অপমানিত ও লাঞ্ছিত করেন।’

তিনি আরো লিখেন, ‘আমার সঙ্গে যেসব কাজ করা হয়েছে তার বিস্তারিত বর্ণনা আমি দেব না। তিনি আমার দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে-এটা জানানোই যথেষ্ট।’

শুক্রবার আইয়্যারি বলেন, আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ নিয়োগের জন্য যদিও তার (প্রফেসর রমজান) মতো একই আর্থিক অবস্থা তার নেই, তবু তিনি যেকোনো মূল্যে এই লড়াইয়ের শেষ দেখতে চান।

সুইস নাগরিক অধ্যাপক রমজান বড় হয়েছেন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায়। তিনি একজন সংস্কারবাদী হিসেবে বেশ প্রশংসা অর্জন করেন এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মৌলবাদের নিন্দা জানিয়েছেন।

পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার নিন্দা জানানো নিয়ে ২০০৩ সালে তিনি ফ্রান্সের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোলাস সারকোজি’র সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

রমজান ইউরোপীয় মুসলমানদের বিষয়ে ব্যাপক লেখালেখি করেছেন। ইউরোপীয় ও মুসলিম হিসাবে তিনি পশ্চিমা মুসলমানদের গর্ব করার জন্য উৎসাহিত করেন। একই সঙ্গে ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক নয়-এমন সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে নিজ নিজ দেশের মুসলিমদের প্রতি আহ্বান জানান।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

ইউএস বিডি টাইমস /রহমান

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>