ঢাকাকে হারিয়ে বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রংপুর

rbwwiand

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউএস বিডি টাইমস :

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফাইনাল ম্যাচে সাকিব-আফ্রিদির ঢাকা ডায়নামাইটসকে ৫৭ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে গেইল-মাশরাফির রংপুর রাইডার্স। এর আগে ফাইনাল ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ঢাকা ডায়নামাইটসকে ২০৭ রানের টার্গেট দিয়েছিল রংপুর রাইডার্স।

২০৭ রান তাড়া করে জেতাটা ঢাকার উইকেটে এভারেস্ট জয়ের চেয়ে কম কিছু নয়। সেটা করতে গিয়ে ম্যাচের শুরুতেই লড়াই থেকে ছিটকে যায় ঢাকা। প্রথম দুই ওভারে মেহেদী মারুফ ও জো ডেনলিকে হারায় দলটি। চতুর্থ ওভারে এভিন লুইস ও পঞ্চম ওভারে কাইরন পোলার্ডকে হারিয়ে পরাজয়টা নিশ্চিত হয়ে যায় ঢাকার।

সাকিব আল হাসান ও জহুরুল ইসলাম ঢাকার হয়ে প্রাণান্ত লড়েন। তবে ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কিছু করতে পারেননি তারা। জহুরুল ইসলাম ৫০, সাকিব ২৬, লুইস ১৪ ও নারাইন করেন ১৪ রান। রংপুরের হয়ে সোহাগ গাজী, উদানা ও অপু নেন দুটি করে উইকেট। এ ছাড়া মাশরাফি ও রুবেল নেন একটি করে উইকেট।

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচে রংপুর রাইডার্স নির্ধারিত ২০ ওভারে এক উইকেট হারিয়ে ২০৬ রান করেছিল। এর মধ্যে গেইল ৬৯ বলে ১৪৬ রান করে রেকর্ড গড়েছেন। বিপিএলের এই আসরে এটি তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। বিপিএলের ইতিহাসে নিজের সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড ভেঙে ৬৯ বলে ১৪৬ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন গেইল। স্ট্রাইক রেট ২১১.৫৯। তাতে ছিল ৫টি চার ও ১৮টি ছক্কার মার। শতক পূরণ করেন মাত্র ৫৭ বলে।

টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ফিরতি ক্যাচ নিয়ে আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান জনসন চার্লসকে (৩) সাজঘরে পাঠান ঢাকা দলপতি সাকিব অাল হাসান। এই একটি মাত্র উইকেটের বেশি নিতে পারেনি ঢাকা ডায়নামাইটস।

প্রথম কয়েকটা ওভার দেখে শুনে খেলেন গেইল ও ম্যাককালাম। প্রথম ৫ ওভারে রংপুর তোলে ২২ রান। ষষ্ঠ ওভারে হাত খোলেন গেইল। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ওভারে তিনটি ছয় মারেন গেইল ও ম্যাককালাম। এরপর আর থামেননি এই দুজন। একাদশতম ওভারে অর্ধশতক পূর্ণ করেন গেইল। ৩৩ বল ব্যবহার করে গেইল হাফ সেঞ্চুরি করেন। এরপর চার-ছয়ের ঝড় তুলে ১৭তম ওভারে বিপিএলের পঞ্চম শতক তুলে নেন তিনি।

অন্যপ্রান্ত হাফ সেঞ্চুরি করেন ম্যাককালাম। ৪৩ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন এই কিউই ব্যাটসম্যান। ম্যাককালাম দেখে শুনে খেললেও গেইল ছিলেন অতিমাত্রায় আগ্রাসি। এই অতিপ্রাকৃত ইনিংসে ১৮টি ছয় মারেন তিনি। ৬৯ বলে ১৪৬ রান করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন এই ক্যারিবীয় জায়ান্ট। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র এক উইকেটে ২০৬ রান করে রংপুর রাইডার্স।

প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল ঢাকা ডায়নাইটস। আর এলিমিনেটর ম্যাচে খুলনা টাইটান্স ও দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে রংপুর রাইডার্স।

ঢাকা এবারসহ চতুর্থবারের মতো ফাইনালে অংশ নিয়েছে। এর আগে তারা তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়। অন্যদিকে, রংপুর রাইডার্স এবার প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

বিপিএলের প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ ও প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্টের পুরস্কার জিতলেন চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের ক্রিস গেইল, বোলার অব দ্য ম্যাচ একই দলের নাজমুল ইসলাম।

বিপিএলের চলতি আসরে ব্যাট হাতে সবার সেরা রংপুর রাইডার্সের ক্যারিবীয় ‘সিক্স মেশিন’ ক্রিস গেইল। ১১ ম্যাচে দুই ফিফটি ও দুই সেঞ্চুরিতে ৪৮৫ রান নিয়ে শীর্ষে তিনি। ব্যাট হাতে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৪৬ ও ১২৬ রানের দুটি ইনিংসও তার দখলে। ম্যাচ প্রতি গড় ৫৩.৮৮ রান। স্ট্রাইক রেট ১৭৬.৩৬।

গেইলের চেয়ে ৮৯ রান পিছিয়ে ৩৯৬ রান নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ঢাকা ডায়নামাইটস ওপেনার এভিন লুইস। ১২ ম্যাচে তার তিনটি ফিফটি। কোন সেঞ্চুরি নেই। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ খেলেছেন ৭৫ রানের ইনিংস। ম্যাচপ্রতি রান গড় ৩৬.০০। স্ট্রাইক রেট ১৫৯.০৩।

আর ১৫ ম্যাচ খেলে ৩৬৫ রানে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক রংপুরের আরেক ব্যাটসম্যান রবি বোপারা। টুর্নামেন্টে তার কোন সেঞ্চুরি নেই। ফিফটি দু’টি। সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ ৫৯ রান। তার ম্যাচ প্রতি গড় ৪০.৫৫ রান। স্ট্রাইক রেট ১১৫.৫০।

ব্যাট হাতে রংপুর দাপট দেখালেও বল হাতে কিন্তু দাপট দেখিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। আরও পরিষ্কার করে বললে সাকিব আল হাসান। ১৩ ম্যাচে বল হাতে ঘূর্ণি সৃষ্টি করে তুলে নিয়েছেন ২২টি উইকেট। টুর্নামেন্টে তার সেরা বোলিং ছিল ২১ নভেম্বর রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে। ১৬ রানের বিনিময়ে তুলে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট। উইকেট প্রতি তার গড় ব্যয় ১৩.২২ রান। আর ওভার প্রতি ব্যয় করেছেন ৬.৪৯ রান।

সাকিবের চেয়ে এক ম্যাচ ও চার উইকেট কমে মোট ১৮ উইকেট নিয়ে বিপিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি খুলনা টাইটান্সের মিডিয়াম ফাস্ট বোলার আবু জায়েদ রাহি। তার সেরা বোলিং ইনিংসটি ছিল ১২ নভেম্বর চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে। ৩৫ রানের বিনিময়ে ক্রিজ ছাড়া করেছিলেন ভাইকিংসদের ৪ ব্যাটসম্যানকে। উইকেট প্রতি রাহির গড় ব্যয় ২০.৩৮ রান। আর ওভার প্রতি খরচ করেছেন ৮.৯৫ রান।

টুর্নামেন্টের তৃতীয় সেরা উইকেটশিকারি হয়েছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পাক পেসার হাসান আলী। ৯ ম্যাচে তার উইকেট সংখ্যা ১৬টি। সেরা বোলিং ফিগার ২০ নভেম্বর ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে। ওই

ম্যাচে ২০ রানের বিনিময়ে তুলে নিয়েছিলেন ৫ টি উইকেট। উইকেট প্রতি তার গড় ব্যয় ১৫.৩১ রান। আর ওভার প্রতি ব্যয় করেছেন ৭.০৩ রান।

বিপিএলের পঞ্চম আসরের শিরোপা জিতলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির এটি চতুর্থ শিরোপা। এর আগে অধিনায়ক হিসেবে ঢাকা গ্লাডিয়েটর্সকে দুবার ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে একবার বিপিএলের শিরোপা জেতান মাশরাফি।

রংপুর রাইডার্স একাদশ: জনসন চার্লস, ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন ম্যাককলাম, রবি বোপারা, মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), মোহাম্মদ মিথুন (উইকেটরক্ষক), নাহিদুল ইসলাম, সোহাগ গাজী, রুবেল হোসেন, নাজমুল ইসলাম, ইসুরু উদানা।

ঢাকা ডায়নামাইটস একাদশ: মেহেদী মারুফ, এভিন লিউইস, জো ডেনলি, কাইরন পোলার্ড, সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), শহীদ আফ্রিদি, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, সুনিল নারিন, জহুরুল ইসলাম (উইকেটরক্ষক), আবু হায়দার রনি, খালেদ আহমেদ।

ইউএস বিডি টাইমস /রহমান

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>