সাইফদের জন্য মাশরাফির ‘আনন্দ’ মন্ত্র

নিজস্ব প্রতিনিধি

ইউএস বিডি টাইমস :

মাশরাফিকে এক বাক্যে সবাই বলেন মোটিভেটর। একটি দলকে কিভাবে মাঠে চাঙা রাখতে হয় সেটি খুব ভালোভাবেই জানেন বাংলাদেশের অন্যতম সফল এ অধিনায়ক। দেশের ক্রিকেটে ছোট বড় সবার জন্য অনুপ্রেরণার মন্ত্র তিনি। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের আগে যুব দলকে অনুপ্রেরণা দিতে গতকাল এসেছিলেন মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে। আগামীকাল নিউজিল্যান্ডের মাটিতে কঠিন বিশ্বকাপ খেলতে যাবে সাইফ হাসানের দল। বিসিবি একাডেমির ভবনে রুদ্ধদ্বার ঘরে যুব ক্রিকেটারদের নানা উপদেশ-পরামর্শ দেন মাশরাফি।

97657_saif

কী বলেছেন মাশরাফি তাদের? এমন কঠিন কন্ডিশনের জন্য তো কঠিন কোনো পরামর্শ দেয়ারই কথা। কিন্তু মাশরাফি বলে কথা। তার মন্ত্রটা যে একেবারেই ভিন্ন। বিশ্বকাপের চাপ নয়, বরং আনন্দ নিয়ে খেলতে বলেছেন তিনি। এ নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘ওদের অনুশীলন বা কঠোর পরিশ্রম করার সময়টা পার হয়ে গেছে। গত দেড় বছর বা দুই বছর ধরে ওরা যে হার্ড ওয়ার্কটা করেছে সেটাই এখন ওরা মাঠে অ্যাপলিকেশন করবে। সো হার্ড ওয়ার্কের কথা বলে লাভ নেই। যেটা বলেছি মেন্টালি স্ট্রং থাকতে। কারণ ওখানে যেয়ে চিন্তা করতে পারে ওয়েদার কন্ডিশন সবকিছু আমাদের বিরুদ্ধে। তাই ওদেরকে বলেছি মনের আনন্দে ক্রিকেট খেলতে। এমন একটা সময় আমি বুঝি, ওরা যত ফ্রি ক্রিকেট খেলবে, যত এনজয় করবে ততো ভালো হবে। আমাদের সেমিফাইনালে যেতে হবে বা বিশ্বকাপ জিততে হবে এই প্রেসারটা ওদেরকে না দেয়া। ওরা যেন ফ্রি ক্রিকেট খেলতে পারে তাই বলেছি।’
এবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে জাতীয় যুব দলের অধিনায়ক সাইফ হাসান। কঠিন কন্ডিশনে কতটা প্রস্তুত তার দল? এ নিয়ে সাইফ বলেন, ‘সবমিলিয়ে আমাদের প্রস্তুতি খুবই ভালো। শেষ এশিয়া কাপ খেলে এসেছি। সবার মোটিভেশন লেভেল খুব ভালো। আমরা খুব ভালো ম্যাচ খেলে এসেছি। এখানে এসেও আমরা দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছি এইচপি দলের বিপক্ষে। বিকেএসপিতে খুব ভালো ম্যাচ হয়েছে। সবমিলিয়ে প্রস্তুতি খুবই ভালো। আমাদের একটা এডভান্টেজ আছে, আমরা নিউজিল্যান্ডে আগে যাচ্ছি। যতটুকু সম্ভব ওইখান থেকে নেয়া।’ বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে আর এমন পরিস্থিতিতে মাশরাফির মন্ত্র তাদের জন্য কতটা কাজে দিবে? সাইফ বলেন, ‘মাশরাফি ভাই ওখানকার কন্ডিশনের কথা বললো। তারপর আমাদের পরামর্শ দিলেন। মাশরাফি ভাই সবসময়ই আমাদের সমর্থন করে এসেছেন। উনার মোটিভেশন অনেক হাই লেভেলের। ইনশাআল্লাহ আমাদের অনেক কাজে দিবে। উনি কোনো চাপ দেয় না। আমাদের গেমটা উপভোগ করতে বলে। স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে বলেন, এগুলো আসলে চাপ অনেক কমিয়ে দেয়। উনার মোটিভেশন অনেক কাজে দেয়। এখানে শুধু অধিনায়ক না, সব খেলোয়াড় যারা আছে সবাই যদি দায়িত্ব নেয় তাহলে আমার জন্য সহজ হবে। উনার কথায় সব খেলোয়াড়রাই অধিনায়ক।’
বিশ্বের যে কোনো দলই নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনকে ভয় পায়। এমনকি জাতীয় দলের সাকিব, তামিম, মুশফিকরাও এর বাইরে নয়। তাই ছোটদের নিউজিল্যান্ডভীতি দূর করতে কী বলেছেন মাশরাফি। সেখানে লড়াইয়ের কৌশলটাই বা কি? এ নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘দ্যাখেন, বিশেষ করে এখনকার সময়ে পৃথিবীর কঠিন টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে উইকেট কিন্তু আমাদের উপমহাদেশে। আপনারা ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড ও সাউথ আফ্রিকা বলেন, এরা সবসময় ৩শ’ রানের উইকেট তৈরি করে। এমনকি দ্বিপাক্ষিক সিরিজেও। ওয়ার্ল্ড কাপের একটা ইস্যুই আছে এখানে সবসময় ভালো উইকেট দিতেই হবে। এটা আমরা সবসময় অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডে দেখেছি। সো আমার বিশ্বাস যদি ওয়েদারে ওইরকম কোনো ইস্যু তৈরি না হয় তবে উইকেটগুলো ফ্লাট এবং ইভেনই থাকবে। সো আমার বিশ্বাস এখান থেকে ওরা যে উইকেটে যাচ্ছে ওইখানে আরো বেটার উইকেট পাবে ব্যাটিং করার জন্য। আর বোলারদের জন্য যেটা কঠিন হতে পারে যে, বাতাসের বিরুদ্ধে বোলিং, উইন্ড একটা বিগ রোল প্লে করে নিউজিল্যান্ডে। ওইটা মানিয়ে নিতে ওরা যেহেতু ১৫-২০ দিন আগে যাচ্ছে ভালো হবে। বোলারদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেন ?ওরা ঐ কন্ডিশনে মানিয়ে নেয় এবং ব্যাটসম্যানরাও যেন একই প্ল্যান করে খেলতে পারে।’

ইউএস বিডি টাইমস / মনিরুজ্জামান

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>