মার্কিন হামলায় প্রায় ১০০ সিরিয়ান সৈন্য নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউএস বিডি টাইমস :

সিরিয়ার পূর্বাংশে মার্কিন বিমান হামলা ও কামানের গোলায় প্রায় একশ’ সরকারি সৈন্য নিহত হয়েছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দেইর আল-জুর অঞ্চলে সিরিয়ান সৈন্যদের একটি হামলার পর ওই পাল্টা হামলা চালানো হয়।

সিরিয়ার সৈন্যরা যে বিদ্রোহী স্থাপনাটিতে হামলা চালিয়েছিল সেখানে মার্কিন সামরিক উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা প্রমান করে যে সিরিয়াতে বিভিন্ন দেশের সামরিক উপস্থিতি একটি বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি করেছে। খবর বিবিসির

সিরিয়ায় এখন ইসলামিক স্টেট প্রায় সম্পূর্ণ পরাজিত হয়েছে, কিন্তু সেখানে বাশার আসাদ সরকারের সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন বিদ্রোহী গোষ্ঠী ছাড়াও মার্কিন, তুর্কি, রুশ এবং ইরানী সেনাদল রয়েছে।

সিরিয়ার সংবাদ মাধ্যম এর নিন্দা করে বলেছে, এটি হচ্ছে সন্ত্রাসবাদের সমর্থনে এক নতুন আগ্রাসন।

অন্যদিকে সিরিয়ান সরকারি বাহিনী রাজধানী দামেস্কের বাইরে পূর্ব ঘুটা উপশহরে আজ চতুর্থ দিনের মতো অন্তত ৬টি লক্ষ্যবস্তুর ওপর বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে ২০ জন নিহত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, রাস্তার ওপর মানুষের মৃতদেহ এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত যানবাহন ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল।

এখানে প্রায় চার লাখ লোক বাস করে এবং তারা এখন সরকারি বাহিনীর দ্বারা ঘেরাও হয়ে আছে। সেখানে খাদ্য আর ওষুধ পৌছানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ইতিমধ্যে তুরস্ক বলেছে, তারা ইরান ও রাশিয়াকে নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক করতে যাচ্ছে – তবে তা কবে হবে তা স্পষ্ট নয়।

সিরিয়ার আফরিনে ঢুকে পড়েছে তুর্কি সেনারা
তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার দেশের স্থল সেনারা উত্তর সিরিয়ার কুর্দি নিয়ন্ত্রিত আফরিন এলাকায় ঢুকে পড়েছে।

বিনালি ইলদিরিম সাংবাদিকদের বলেন, তুরস্কের সেনাবাহিনী আফরিন এলাকা থেকে কুর্দি জঙ্গীদের তাড়িয়ে দিয়ে একটি ৩০-কিলোমিটার ব্যাপী ‘নিরাপদ এলাকা’ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করবে।

তবে কুর্দি মিলিশিয়া ওয়াইপিজি এ খবর অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করছে, তুরস্কের আক্রমণকারীদের হটিয়ে দেয়া হয়েছে।

গতরাতে কুর্দিদের নিক্ষিপ্ত একটি রকেট কিলিস নামে একটি সীমান্ত শহরে গিয়ে পড়ে, এর পর তুরস্কের দিক থেকেও তার জবাব দেয়া হয়।

ওয়াইপিজি মিলিশিয়ারা বলছে, শনিবার আফরিনে বেশ কয়েকজন বেসামরিক লোকসহ মোট ৯ জন নিহত হয়েছে।

গত বেশ কিছুদিন থেকেই তুরস্ক আফরিন এলাকার ওপর গোলা বর্ষণ করছিল। এর পর শনিবার থেকে শুরু হয় বিমান হামলা।

তুরস্ক বলছে, স্থল অভিযান শুরু করার আগে তারা ১৫০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে।

তুরস্ক সমর্থিত ফ্রি সিরিয়ান আর্মির যোদ্ধারাও আফরিন এলাকায় ঢুকছে, এ খবর দিয়েছে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আন্দালু।

তুরস্ক ওয়াই পিজিকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন বলে মনে করে, এবং তাদের ধারণা তুরস্কে নিষিদ্ধ কুর্দি জঙ্গী সংগঠন পিকেকে’র সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা আছে।

সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন-নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনকে সহায়তা করেছে ওয়াইপিজি। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রএক পরিকল্পনা করে যে ইসলামিক স্টেটের ফিরে আসা ঠেকাতে তারা সিরিয়ায় তুরস্ক-সীমান্ত বরাবর নতুন একটি সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী গঠন করবে – যা হবে প্রধানত কুর্দি-প্রধান।

এর পরই তুরস্ক ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে এবং এই বাহিনীকে ‘আঁতুড়ঘরেই নির্মূল করার’ ঘোষণা দেয়। তুরস্ক নিজে নেটো সদস্য হলেও – এই জোটের সাথে তাদের এখন সরাসরি সংঘাত দেখা দিয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, রাশিয়া, আমেরিকা এবং সিরিয়া সহ সব পক্ষকেআগে জানিয়েই এ অভিযান শুরু করা হয়েছে। সিরিয়া অবশ্য এ কথা অস্বীকার করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্ক কতদূর পর্যন্ত এই ব্যয়বহুল অভিযান চালাতে চায়- এটাই দেখার বিষয়।

ইউএস বিডি টাইমস /রহমান

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>